সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা
সিন্ধু প্রদেশ বাংলাদেশের মতোই কবিতা ও গানের ভূমি। যেখানে কবি শাহ আবদুল লতিফ ভিটাইয়ের মানবিক গীতিকবিতা উচ্চারিত লোকের মুখে মুখে; সেখানে কবি নজরুল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভক্ত পেয়ে যান। নজরুল তখন ফারসি শেখায় ব্রতী হন; কারণ ওমর খৈয়ামের কাব্য অনুবাদের আগ্রহ তাকে পেয়ে বসে। পারসিক নাবিক, ব্যবসায়ীদের বিচরণ তখন ছিলো এ সুরম্য নগরীতে। নজরুল কবিতা লিখলে তা অন্যদের সাহায্য নিয়ে উর্দুতে অনুবাদ করে দিলে; মুখে মুখে সে গজল ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তিনি রুশ বিপ্লব সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে পারেন। ফলে তার গদ্যে বিপ্লব আর যুদ্ধের বর্ণনা আসতে থাকে। বাংলা সাহিত্যে যুদ্ধের এমন জীবন্ত ইতিউতি তুলে আনার ঘটনা সেটাই প্রথম।
আমার দৃষ্টিতে তরুণদের জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় দেশপ্রেমী ব্যক্তিত্ব নিঃসন্দেহে বাংলার ইতিহাস পুরুষ মহানায়ক নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং নবাব ভক্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবি তার কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে এমন এক রাজ্য তৈরি করেছেন যেখান থেকে আলোর উৎসারণ ঘটে বিপুলবেগে। তিনি স্বপ্নরাজ্যের এমন এক ‘আমামা’ শিরে বেঁধেছিলেন- যা অনিবার্যভাবে একজন সিংহ পুরুষের, যে কারণে আজও তিনি সমানভাবে দেশপ্রেমিদের কাছে সমাদৃত। নজরুলের কলমে বক্তৃতায় উঠে এসেছিলো কবিতা-গান, কখনওবা প্রবন্ধ-নিবন্ধ- রচনা, সেখানে শোকাবহ মুহাররম আশুরা কারবালা, বাংলার স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী প্রথম শহীদ বীর শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধা বাংলার পিতা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রক্তাক্ত পলাশী নিয়ে অগাধ শ্রদ্ধা ও ভক্তি লক্ষ্য করা যায়। যা সত্যি প্রশংসনীয়। বাংলার এই দেশপ্রেমী কবি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কবিতাও লিখেছেন। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। বাংলার হৃদয় জুড়ে তার কবিতা ও গান সবসময় সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার কবিতার মূলবিষয়বস্তু ছিলো মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। নজরুলের উপযোগিতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি, কখনো ফুরোবে না।
