দৃশ্য- ১
[ধুঁয়াচ্ছন্ন বন্দীশালা। উঁচু আসনে বসে নেশায় মত্ত অত্যাচারী শাসক। তার হুকুমের সভাষদ ও ২/৩ জন পাইক গোছের লোক বন্দীদের অমানুষিক নির্যাতন করছে। শাসকের পায়ের কাছে বসে সভাষদ ধরে রেখেছে গুচ্ছ শেকল, যার প্রতিটির অগ্রভাগে এক একজন বন্দী। কারো বা পেছনে হাত মোড়া কিংবা কোমরে দড়ি বাঁধা। পাইকরা চাবুক চালাচ্ছে। বন্দীরা কাতরাচ্ছে, মেঝেতে পড়ে গোঙাচ্ছে।]
শাসক : চোপ! (অট্টহাসি। ঢক ঢক করে মদ খায়। মোবাইলে রিং বেজে উঠে।)
স্লামালেকুম। জ্বী জ্বী… বস্। জ্বী, আশা করি অমানুষগুলোর ষাঁড়ের মতো চিৎকার নিজ কানেই শুনতে পাচ্ছেন। হা… হা… হা…। ইয়েস বস্ ইয়েস, আপনার নির্দেশ মতই কাজ হচ্ছে। একবারে কর্ত্তার ইচ্ছায় কেত্তন। তরুণ প্রজন্ম, মধ্য প্রজন্ম, বোদ্ধা প্রজন্ম– সব প্রজন্মের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছি। ওদের রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতি– এই তিন জায়গার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সহসাই পেয়ে যাবেন স্যার। [নির্যাতিতরা আহ্-উহ্-মাগো বলে আর্তনাদ করে। শাসক খামোশ বলে ধমক দেয়। সিগারেটে কষে দম দেয়। শাসকের সাথে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে সভাষদ ও পাইকরাও।]
দৃশ্য- ২
[৭/৮ জন মানুষ বিভিন্নমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে/বসে। এদের ৫ জন যুবক ১ জন বৃদ্ধ, ১ জন মাঝবয়সী শিক্ষক, একজন লুঙ্গি পরা সাধারণ মানুষ।]
যুবক ৩ : জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি, বিস্ময়কর সব আবিস্কার আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যাণে আজ আমরা এক অত্যাধুনিক বিশ্ব।
যুবক ২ : হ্যাঁ; একটি ডিজিটাল বিশ্ব। ইলেক্ট্রনিক সভ্যতার প্রসারে পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়।
সাধারণ মানুষ : হাছাই কি আমরা আউগ্যাইছি?
শিক্ষক : কী জানি। বুঝি না, ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। ভয় হয় টেকনোলজি আর যন্ত্রের কবলে মানুষ বন্দী হয়ে পড়বে নাতো কোনো একদিন!
যুবক ১ : হয়তো পড়বে না। আবার পড়তেও পারে স্যার।
যুবক ২ : হয়তো পড়বে না। আবার পড়তেও পারে স্যার।
যুবক ৩ : এ কথার মানে কী?
যুবক ১ : মানে অতি সহজ। প্রযুক্তির পেছনের যে মানুষ সেই কেবল তা নিশ্চিত করতে পারে। প্রযুক্তির মতো একগুঁয়ে ও স্বার্থপর হয়ে উঠতে বাধ্য।
যুবক ২ : যন্ত্রের ওপরও নৈতিকতা? হা, হা, হা (হাসি)।
যুবক ১ : হ্যাঁ অবশ্যই। যন্ত্রতো আলাদীনের দৈত্য, হুকুমের গোলাম।
বৃদ্ধ : ওতো সব বুঝি টুঝি না। তোমাদের ঐ ডিজিটাল– সে তাল হোক আর বেতাল হোক, মানুষের বিবেকটাকে কিন্তু ঠিক তালে রাখা চাই।
শিক্ষক : ঠিক, শতভাগ ঠিক কথা। নইলে মানুষ হারাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। ভোগ আর লালসার দখলে যাবে অত্যাধুনিক সমাজ। সুখের নামে আত্মযাপিত জীবনে হবে পশুত্বের বড়াই। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব– এ সত্য লীন হবে, এও কি সওয়া যায়? (এ সময় রোবোটিক ভংগীতে দুটি সংবাদ পত্র-মানুষ (পত্রিকায় আবৃত) মঞ্চের মধ্যভাগে এসে দাঁড়ায়। সবাই পত্রিকা-মানব দুটিকে ঘিরে উৎসুকভাবে ডানে-বাঁয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উচ্চস্বরে পড়তে থাকে।]
যুবক ১ : দুদকের তদন্তে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল অসন্তুষ্ট।
যুবক ৩ : প্রেমিকের এসিডে ঝলসে গেল ইডেন কলেজের ছাত্র।
শিক্ষক : শিক্ষক অপহরণ! দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিতে এসেবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার!
যুবক ২ : রাঙামাটিতে ধর্ষিতা কিশোরী তুমা-চিং মারমার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে পরিবার!
বৃদ্ধ : পুড়িয়ে মারা হচ্ছে ধর্ষিতাদের!
যুবক ৩ : আপত্তিকর ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল!
যুবক ১ : থানায় মামলা হলেও পুলিশ নির্বিকার!
শিক্ষক : নিরাপত্তাবাহিনী ও মাস্তানরা একাট্টা– অসহায় সাধারণ মানুষ!
রোবোটিক ভঙ্গিতে পত্রিকা-মানব ২টি ধীরে ধীরে প্রস্থান করবে। সবাই একটু ঝুঁকে আবার পূর্ব অবস্থানে।)
যুবক ৩ : মাদারীপুরের বখাটে গু-াদের আমি ছাড়বো না, কোনদিন না। যারা আমাদের চোখের সামনে আমার বোনকে… [ চোখ-মুখ চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। যুবক- ১ এসে ওকে সামলে একপাশে সরিয়ে নেয়। শান্ত¡না দেয়। নীরবতা]
বৃদ্ধ : চারদিকে কি শুধু শয়তানের রাজত্ব চলবে? ঐ হায়েনা পশুগুলো আমার নাতনীকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে। আমায় লাথি মেরে আমার পাঁজরের হাঁড় ভেঙে দিয়েছে। আহ- আহ! ওরে বাবারে (ব্যথায় কোঁকাতে কোঁকাতে বসে পড়ে। শিক্ষক এগিয়ে এসে ধরে। বৃদ্ধ আবার লাঠি ভর করে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে) কাছেই পুলিশ ছিল। দোকানী, পথচারী কতজনইতো ছিল। কিন্তু কেউ, কেউ এগিয়ে এলোনা, কেউ না। এ কেমন সমাজ? এ কেমন দেশ? এই কী আমাদের সভ্যতা– উন্নয়ন? নৈরাজ্য… নৈরাজ্য। কোথায় আইন, কোথায় রাষ্ট্র, সরকার কোথায়?
যুবক ২ : নেই। কোথাও কোন বন্ধু নেই।
শিক্ষক : সৎ মানুষেরা আজ বড়ই অসহায়। কিন্তু এও সত্য, রাষ্ট্র যখন অন্যায় করে তখন জনগণই খুঁজে নেয় মুক্তির পথ। (যুবকেরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমর্থন জানায়।)
আজ নির্যাতিতের আত্মরোষে ফুসছে গ্লানির অবদমিত কান্না। শিক্ষা বলো, সভ্যতা বলো পাশ্চাত্য বেহায়া সংস্কৃতির ডামাডোলে দিল্লী, ঢাকা, সমতল থেকে পাহাড়, পাহাড় থেকে সমুদ্র, মাদারীপুর-টাঙ্গাইল-মধুপুর, শহর-বন্দর গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র শুধু হিংস্রতা।
যুবক ১ : নরপশু ধর্ষক-গু-া-সন্ত্রাসীদের নিকৃষ্ট পাশবিক অন্যায় আর জুলুমে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে আকাশ-বাতাস। জমিনে নির্যাতিতের রক্ত, বাতাসে লাশের গন্ধ।
যুবক ১ : আহ…। আমার দেহে প্রাণ থাকতে আমি ওদের ছাড়বো না… কক্ষনো না…
[রাগে নিজের চোখ-মুখ চুল নিজেই খাবলাতে থাকে]
বৃদ্ধ : কি করবে তুমি? খুব তো এগিয়েছে তোমাদের বিশ্ব! কিন্তু সেখানে তুমি একা বন্ধুহীন। ঐ পশুশক্তির বিরুদ্ধে যদি সবাই একযোগে না লড়ে (হঠাৎ ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠে) আহ… আহ… যদি, যদি সবাই এগিয়ে না আসে তাহলে সেই সজ্জন, সেরকম ভাল মানুষ তুমি কোথায় পাবে?
যুবক ১ : আপনি ভাববেন না দাদু… আমরাই হবো সেই ভালো মানুষ। আমরাই লড়বো। জানি কাজটি অনেক কঠিন– তবু আমাদরে জাগতে হবে, জাগাতে হবে সবাইকে।
[ অঙ্গীকারের উত্তেজনায় টান টান হয়ে দাঁড়ায় যুবকেরা]
সবাই : আমাদের পারতেই হবে, আমরা পারবো। (মঞ্চ ধীরে ধীরে অন্ধকার হবে)।
দৃশ্য- ৩
[অন্ধকারে উন্মাতাল ধামাকা হিন্দী ‘উলালা উলালা’ গানের উচ্চ আওয়াজ। সিগারেট জ¦লছে-নিভছে। লাইট মৃদু বাড়বে। ধোঁয়াটে ঝাপসা আলোয় দেখা যাবে হিপ্পী-জিপ্পী পোশাকে, ২/১ জন খালি গায়ে। ১ জন মদ গিলছে বোতল থেকে ১ জন হেরোইন পুশ করছে। সবারই মাতাল দশা প্রায়। জড়ানো কণ্ঠ।]
বখাটে ২ : দোস্ত। নন্দিনীরে না অইলে যে আমার মন ওডে না…
বখাটে ৩ : উপ্স্- নন্দিনী… স্মার্ট আইটেম গার্ল। মাইরি, খাসা।
বখাটে ৪ : যেমন কী বোম্বাইয়া ফ্যাসন মাইয়া-কেমন ঢেউ তুইল্যা হাঁইটা যায়।
বখাটে ২ : ক্যাট ওয়াক, ক্যাট ওয়াক, আহ্ মনে লয় এস্পার ওস্পার কইরা ফালাই।
বখাটে ৩ : ওই, এক্কেরে চোখ খুইল্যা ফালামু। আগে বস্- পরে তোরা।
(বস্কে) তুমি অনুমতি দিলে বস্…
বখাটে ১ : অনুমতি দিলাম। ধর-পেয়েই গেছিস। (সকলেই বিশ্রীভাবে উল্লাস শুরু করে)। কীরে– হগগলতে খুব খুশি আইছচ মনে লয়? (ওরা মাথা নাড়ে জোরে জোরে] তয়- ক্যালইকা পাঁচ কেজি আর তিন লাখের ডিলটা তুই একাই সাইরা আসবি। থানায়, এলাকায়… সব জায়গায় কয়া রাখছি। কি, পারবি তো?
বখাটে ৩ : আলবৎ পারুম। (হিন্দী গানের সুরে) এক দো তিন, পাঁচ কেজি হেরোইন। তিন লাখ ইয়াবা, বাহা বাহাবা… বা। সাবাস বস্।
এইহানে পরথম চালান বুঝি? দেহি, কয়ডা (বলেই মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কতগুলো প্যাকেট তা গুণতে থাকে। সে আলোয় ওদের আলুথালু অবস্থা প্রকট হয়ে দেখা যাবে]
বখাটে ১ : ওই– বাত্তি নিভা।
বখাটে ৩ : হ, হ… নিভাইতাছি বস্।
কিন্তু বস, আমার আগে ২টি মামলা…। ঐ সালা হিঁদু ব্যবসায়ীর বাচ্চার উপরের খুঁটির জোর এত্ত বেশী– জাইনলে কী আমি ঘাঁটতে যাইতাম। তয় তুমি চাইলে…
বখাটে ২ : দাও না উস্তাদ, আর মামলাগুলান ডিসমিস কইরা। তোমার পায়ের তলে তো শক্ত মাডি। লোকাল নেতা, বড় নেতা, থানা থেইক্কা সচিবালয়– সচিবালয় থেইক্কা গণভবন… হগ্গল খানেইতো তোমার হটলাইন।
বখাটে ৪ : তুমি অইলা টপ, মানে ১ নম্বর। উপরের নির্দেশে কেমন পটপট কইরা জেলের তালা খুইলা গেলো– আর পুটুত কইরা বাইরে আইয়া পড়লা। খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি-পাচার… কত মামলা কইরাও আদালত ফু-স। (সকলে) হে… হে… হে.. হে।
বখাটে ২ : তোমার পা দু’খানা দেও গো গুরু, একটু পেন্নাম করি।
বখাটে ৩ : তয়, আমি তোমারে খুসী করুম কী দিয়া– হেইডাতো জানি না। তুমিই কও, তোমার কী চাই, আমি জান কোরবান কইরা অইলেও আইন্যা দিস্…
বখাটে ১ : আমি যারে চাই– তারে তোরা চিনস্– না জানস?
বখাটে ২, ৩ : কেঠা, কেঠায় বস?
বখাটে ৪ : খালি মুখ ফইসকা একবার কও, অহনি তুইলা আনমু কইতাছি।
বখাটে ১ : চোপ বে! আমি চাই রানীর মতো করে তারে আমার বালাখানায় তুইল্যা আনতে।
বখাটে ২ : কিন্তু কেঠায়, হেইডাইতো কইলা না উস্তাদ।
বখাটে ১ : সাবিহা…
বখাটেরা : সাবিহা! ওরে বাপস্রে। আগুন, আগুন।
বখাটে ২ : যেমন গুণী– তেমনী জেদী–
বখাটে ৩ : রূপেতে সেরা– গুণেতে অনন্যা
বখাটে ১ : শিক্ষায় সৌন্দর্যে, ব্যক্তিত্বে ও অইল গিয়া সবার সেরা, তাইতো বিকাশ তারেই চায়।
বখাটে ৪ : শুনেছি ও বড় সাহেবের আত্মীয়া। তা ছাড়া… ওতো মুসলিম। মিজান স্যারের গ্রুপে ও হইলো গিয়া টীম লিডার, মানে সভানেত্রী।
বখাটে ১ : আবে চোপ! সভানেত্রী– হু! শোন, এখন ধর্মনিরপেক্ষ সময়। দুনিয়া হইলো শক্তের ভক্ত। আর নারী জাতি হইলো কোমলমতি। বশে আনতে কতক্ষণ।
বখাটে ৩ : তুমি চাইলে তো পারবাই। তয়– কওতো কাইল-ই তোমার ঘরে ঢুকাইয়া দিই?
বখাটে ১ : থাম থাম। এত তাড়া কীসের? ধীরে বৎস ধীরে, আগে মিজান স্যারেরে একটু সাইজ কইরা লই, তারপর আস্তে আস্তে প্যাঁচে ফ্যালাইয়া ওর বাপ-মা-ভাই-বোন হগলডিরে এমুন কইরা ঘোলা পানিতে চুবামু– শেষে দিশা না পাইয়া কাইন্দা- কাইট্যা পায়ে আইস্যা পড়বো। তখন, তখন সুন্দরী সাবিহা…
সকলে : আহ্ আহ! সাবিহা।
বখাটে ১ : সাভানেত্রী সাবিহা
সকলে : আহ্ আহ্!
বখাটে ১ : কেবলই আমার আমার আমার
সকলে : কেবলই আমার আমার আমার
বখাটে ১ : এই চোপ!
বখাটে ২, ৩, ৪ : থুক্কো, শুধুই তোমার তোমার তোমার (হঠাৎ মোবাইল রিং বেজে ওঠে)
বখাটে ১ : চল ওঠ, অপারেশনের সময় অইয়া গেল। যার যার কামে যা। যারে যেমতে কইছি… ঠিক আছে?
সকলে : হ, বস, ঠিক আছে। [সবাই গ্লাস, বোতল গুটাতে থাকে। অন্ধকার]
দৃশ্য- ৪
(চার-পাঁচ জন যুবক দাঁড়িয়ে / বসে।)
যুবক ১ : নাহ, এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। এ সত্যি অসহ্য।
যুবক ২ : আজ একে ধরে চাঁদাবাজি করবে। কাল ওকে ধরে মারবে। চাঁদা না দিলে হুমকি, মিথ্যে মামলা নয়তো খুন। মা-বোনদের পথে-ঘাটে বেইজ্জত করবে।
যুবক ৪ : জানিস, কাল ওরা মিজান স্যারকে রাস্তায় সাইকেল থেকে নামিয়ে শাসিয়েছে। সেমিনার বাতিল করেছে। প্রতিবাদ সভাও নাকি করতে দেবে না।
যুবক ১ : কী? (পজ) আচ্ছা, ওরা কি মিজান স্যারের গায়ে হাত তুলেছে?
যুবক ২ : তোলেনি, তবে তুলতে কতক্ষণ? ধমকাবে, কলার চেপে ধরে মারবে, মাথা ফাটিয়ে দেবে কিংবা গুমখুন করে নালা নর্দমায় ফেলে রেখে গেলেও– কী করতে পারবি।
যুবক ১ : কী করতে পারবো জানি না। কিন্তু কিছুতো করতে হবে। ভয় পেয়ে চলবে না। আমাদের যে কাজ– তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হারাবার কিছু নেই। দুনিয়াতেই বলো, আর পরকালেই বলো– আমাদের কোন লোকসান নেই। মহান প্রভু আমাদের সহায়।
যুবক ৩ : (‘ওরা নন্দিনীকে ধরে নিয়ে গেছে’– দর্শকদের মধ্য থেকে চিৎকার করে বলতে বলতে দৌড়ে এসে মঞ্চে ঢোকে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে) ‘ওরা নন্দিনীকে কলেজের গেট থেকে ধরে নিয়ে গেছে। যারা বাধা দিতে গেছে তাদেরকে ওরা বোমা মেরেছে। হানিফ স্যার, জগলু, কেরামত সবাই আহত। সাজিদকে ওরা মেরে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে গেছে। (হাঁপাতে থাকে)
যুবক ১ : নন্দিনী মানে– সেকেন্ড ইয়ারে’র নন্দিনী দাশ?
যুবক ২ : হ্যাঁ হ্যাঁ।
যুবক ১ : আর সাবিহা? সাবিহাদের কী খবর? ঐ বদমাশগুলোর টার্গেট তো সাবিহা।
যুবক ৩ : সাবিহারা বলেছে– নারী অধিকারের জন্য ওরা লড়বে। প্রতিবাদ সভা করবেই।
যুবক ১ : হিজাবধারী নারীদের অপদস্ত করা, বোরকা খুলে নির্যাতন আর আদালতে হাজির করার প্রতিবাদে সাবিহাদের তো টাইন হলের মোড়ে যাবার কথা– তাই না?
যুবক ৪ : তা আর হচ্ছে না, পুলিশ ১৪ ধারা জারি করেছে। মিজান স্যার বলেছেন– প্রয়োজনে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ সভা করা হবে– সাবিহারা সম্ভবত এখন সেদিকেই যাচ্ছে।
যুবক ১ : চল, তাহলে আমরাও যাই। ঐ হায়েনাদের হাতে মা-বোন কেউ আর নিরাপদ নয়।
যুবক ২ : তবে সাবধান, পুলিশের সাথে সাদাপোশাকে ওরাও আছে। গুলিও চালাতে পারে!
যুবক ১ : সবাই একটু আড়ালে থাকিস, পুলিশের নাগালের বাইরে।
সকলে : হ্যাঁ হ্যাঁ চল যাই। চল, তাড়াতাড়ি চল। (প্রস্থান)
দৃশ্য- ৫
[দৃশ্যটি মঞ্চের এক চতুর্থাংশ খোলা রেখে অথবা কোন ফটকের মত কঠোর ফ্রেমে সাদা কাপড়ে পেছন থেকে লাইট ফেলে দৃশ্যায়ন করা যেতে পারে। দৃশ্যের শুরু থেকেই একটি করুণ প্যাথোস– নেপথ্যে একটি মেয়ের বেদনার্ত সংলাপ ভেসে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত তা চলবে। সাদা পর্দার অন্তরালে একটি আলুথালু মেয়ের ছায়া। ঢুলু ঢুলু পায়ে ছায়াটি এসে একটি চেয়ারে উঠে দাঁড়াবে। ছায়াটি পর্দার কাছাকাছি থাকায় খুব স্পষ্ট। হাতে একটি দড়ি– উপর থেকে ঝুলন্ত। ধীরে ধীরে তা গলায় ফাঁসের মতো পরবে।]
[নেপথ্য সংলাপ] : প্রিয় বোন, প্রিয় বান্ধবী সাবিহা, আজকের সভায় কিংবা সেমিনারে তোরা যখন সোচ্চার তখন আমি অনেক দূরের অস্তিত্বহীন কেউ। আমাকে ক্ষমা করিস। সমাজের চোখে ঘৃণ্য বলেই বেছে নিয়েছি এই পথ। নারী হয়ে জন্মই কি আমাদের অপরাধ? প্রাচ্যে কী পাশ্চাত্য, কালে কালে দেশে দেশে এই অপরাধ থেকে তথাকথিত সভ্যতা পারেনি মা-বোন কিংবা স্ত্রীকে আজও মুক্তি দিতে। মিজান স্যারের একটি লেখায় পড়েছিলাম হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, মার্কিন পণ্ডিত ড. টি. বেরী বলেছিলেন, ‘সমান অধিকারের নামে নারীদেরকে আমরা অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছি। শ্রমজগতে প্রবেশ করতে বাধ্য করেছি। পণ্যের বিপণনে নারীকেই বানিয়ে ফেলেছি সস্তা পণ্য। আজ মনে হয়, আমাদের বালিকারা, নারীরা এক কঠিন করুণ অবস্থার শিকার। আজ বার বার মনে হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনী, সভ্য ও শক্তিধর দেশ হয়েও আমাদের দেশ এক গভীরতম বিপদের গহ্বরে নিপতিত। (পজ, দীর্ঘশ্বাস!) ঘেন্না ধরে গেছে। নিজেকেই নিজে ধীক্কার দেই। সেই ছয় বছরের আমি, নয়-বার পনের-আঠার-একুশ… প্রতি ঘাটে ঘাটেই তো কতো অযাচিত অপমানের শিকার হয়েছিলাম– যেমন হয় ঘরে বাইরে প্রতিটি নারী। সবইতো মেনে নিয়েছিলাম। শুধু মানতে পারিনি– সম্পূর্ণ নির্দোশ হয়েও অভিভাবক-সাংবাদিক-পুলিশ-আদালত সর্বত্রই পুরো সমাজের চোখে কী করে একটি নারী দোষী হয়! আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায় শুধু নারীকেই? নির্লজ্জ্ব ডাক্তারী পরীক্ষা, রিপোর্ট– সেও আমাদেরই দেহ ঘিরে। আমি তো মায়ের জাতি, আমিও কি কোন কুলাঙ্গার পুরুষ সন্তানকে গর্ভে ধারণ করবো? আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার অদৃশ্য আত্মার অভিমান টুকুই শুধু রেখে গেলাম। যুগে যুগে সত্য সাহসী সাবিহারা প্রতিবাদ করবে। যে কালজয়ী আদর্শ নারীকে সম্মানিত করেছে তার জয় হোক। কথা দিন– এই শেষবেলায় শুধু এইটুকু কথা দিন– সাবিহাদের পক্ষে আপনারা দাঁড়াবেন। বিদায়।
[সংলাপ শেষে বাতি নিভে যাবে, করুণ মিউজিক তীব্র হবে। নীল আলোয় দেখা যাবে শূণ্যে ঝুলে থাকা দুটি পা ধীরে ধীরে দুলছে। বাতাসে উড়তে থাকবে পরনের অর্ধেক শাড়ি / ওড়না। এ সময় রবীন্দ্র সংগীতের একটি কলি বাজতে থাকবে– ‘ঝরা পাতা ঝরা পাতা… ঝরা পাতাগো ঝরা পাতাগো আমি তোমার দলে’। ধীরে ধীরে বাতি নিভবে।]
দৃশ্য- ৬
[জনকোলাহলের শব্দ। দূর থেকে মাইকে নারীকণ্ঠের প্রতিবাদ ভেসে আসে।]
নারীকণ্ঠ : আমরা ভেবেছিলাম দিল্লীতে দামিনীর ওপর নির্যাতন ও তাকে হত্যার প্রতিবাদে যেভাবে সারা ভারতবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছিল, তেমনি করে জ্বলে উঠবে দেশের জনগণও। কিন্তু কী আশ্চর্য! নারীদের প্রতি সহিংসতা সর্বত্র আরো বাড়ছে। ঘরে কী বাইরে– তিন বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধা কেউ যেন নিরাপদ নয়। কিশোরী, যুবতীদের ধরে নিয়ে নির্যাতন, আর নির্যাতন শেষে হত্যা করা যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পর্দানশীন নারীদের অপদস্ত করা হচ্ছে…
এসব কিসের আলামত? ক্ষমতাবানদের অন্যায়, আর ধর্মহীনতার আড়ালে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে বলেই এভাবে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র ঘৃণা ও নিন্দার সাথে আমরা এর প্রতিবাদ করছি। (তালি ও চিৎকার) আমরা ইজ্জত-আব্রুর নিশ্চয়তা চাই। বখাটেদের উপযুক্ত বিচার ও ফাঁসি চাই। শাশ্বত বিধানের আলোকে প্রকাশ্য হত্যাই কেবল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (শ্লোগান) অন্যথায় আইনের ফাঁক ফোকর আর ক্ষমতাসীনদের অবৈধ কারসাজিতে এই সব নির্লজ্জ ঘাতক পশুরা দিনে দিনে আরো ভয়ানক হয়ে উঠবে। নারী হচ্ছে মা, নারী বোন, নারী স্ত্রী, তাকে সম্মান দিতে হবে। নইলে সাবধান, এই আগুন নিয়ে যারা আজ আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তারাও পুড়ে ছারখার হবে।
[এ সময় এ্যাম্বুলেন্সের হুইসেল, বোমার আওয়াজ, আর্তনাদ। পুলিশ ও লাঠিসোটাধারী বখাটেদের এদিক ওদিক ছুটাছুটি, ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া। আলো নিভবে।]
দৃশ্য- ৭
[দেয়ালে একটি লাশ কাৎ হয়ে পড়ে আছে। ২/১ জন পথচারী লাশ দেখে দ্রুতপায়ে হেঁটে যায়। একজন ডিউটি পুলিশ নাকে কাপড় গুঁজে কাছে গিয়ে চিনতে চেষ্টা করে। নির্বিকার ভঙ্গিতে মাঠের এক পাশে গিয়ে ওয়াকিটকিতে কথা বলে]
পুলিশ : স্যার, এইডাতো আমাগো থানার আওতায় পড়ে না। পিলারের ঠিক ২/৩ গজ বাইরে এইডা পইড়া আছে। পাশের থানার ঝামেলা আমরা কেন নিমু স্যার? জ্বী- জ্বী… এ রকম তো আজকাল কতই পইড়া থাকে স্যার, রাস্তার পাশে, নালায়, বিলে-খালে। স্যার– দলের নেতাগো অহন যা মর্জি… জ্বী স্যার, ইয়েস স্যার। কইছিলাম পোলাপান গো কথা স্যার।
[যুবক ৩ ঢুকে লাশ দেখতে গিয়ে হঠাৎ পুলিশের দিকে চোখ পড়তেই প্রথমে ঘাবড়ে যায়। পুলিশ সচকিত হয়ে ঘন ঘন বাঁশি বাজায়। যুবক ৩ আড়ালে থেকে কথা শোনে।]
: কইছিলাম পোলাপানগো… থুক্কু, ভুল অয়া গেছে স্যার। সোনার ছেলেরা স্যার, আমাগো সোনার ছেলেদের যা মর্জি আর কী স্যার।
(পুলিশ লাশটির দিকে একটু এগিয়ে) এটা কোন জঙ্গীটঙ্গী অর্থাৎ কোন মৌলবাদীর লাশ অইবো মনে হয় স্যার, (হাসি) কোন বিপ্লবী হয়তো সোনার ছেলেগো বাগড়া দিছে। আর নয়তো ধরুণ কোন গরুচোর, সিমান্তে বিএসএফ যেভাবে মারে আর কি স্যার হা… হা… হা… (হাসি)
[হঠাৎ ভয় পেয়ে স্যালুট করে দাঁড়ায়। আশেপাশে কাউকে না দেখে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। পিছন ফিরে যুবক ৩-কে দেখে লাফিয়ে ওঠে।]
পুলিশ : এই! এই তুই কেরে? তুই… তুই সেই মাদারীপুর না?
যুবক ৩ : হ্যাঁ, আমি সেই মাদারীপুর। তোমারেও তো আমি চিন্না ফালাইছি। (পুলিশ চলে যেতে উদ্যত) শালা, এখন পালাচ্ছো কোথায়। সেদিন তুমি থানায় আমার মামলা নাওনি। (হঠাৎ উচ্চস্বরে) এই, তোমরা শোনো, কে কোথায় আছো, বেরিয়ে আসো। (পুলিশকে) এখন পালাচ্ছিস কেন? আজ তোকে আমি ছাড়ছি না। (পুলিশকে তাড়া করে। দুজনেই বেরিয়ে যায়। বাতি নিভে যাবে। অন্ধকারে লাশ উঠে চলে যাবে। মঞ্চের অপর পাশ থেকে তাদের আবার ঢুকতে দেখা যাবে। (যুবক ২ ও ৪ পেছনে পেছনে প্রবেশ করে।)
(যুবক ২ ও ৪ পেছনে পেছনে প্রবেশ করে।)
যুবক ২ : খাড়া শালা। আমাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে যখন আমার সামনে আমার বোনকে ঐ বখাটে লম্পটগুলো জোর করে বেইজ্জত করলো, রক্তাক্ত করলো তখন তুই শালা কুত্তাও সুযোগ নিয়েছিলি। (যুবক ১ এর প্রবেশ) ওরা আমার মাথায় পাথর দিয়া আঘাত কইরা আমারে অজ্ঞান করে ফালাইলো। আমার বোনকে শ্বাসরোধ কইরা মাইরা লাশ গাছের সাথে ঝুলাইয়া গেল। তুমি শালা কাইট্টা পরছো। আমি এই থানায়, ঐ থানায়, নেতাগো দুয়ারে দুয়ারে গেলাম– ঐ লম্পটগুলোর একে একে পরিচয় দিলাম। কেউ আমার কোন কথা শোনেনি।
পুলিশ : না না, সব মিছা কথা। (যুবক ১-কে) এই যে ভাই, আমার কী দোষ কন!
যুবক ৩ : মিছে কথা– না? মামলা তো নেচ নাই, উল্টা ঐ গুণ্ডাগুলারে আমার ওপর লেলাইয়া দিছিলি। (পুশিকে মারতে থাকে) বানোয়াট মামলা দিছস। (কিল) রিমান্ডে নিয়া অত্যাচার করছস। (ঘুষি) আর অহন নাকি আমি আবোল তাবোল বকি। লোকে আমারে পাগল কয়। আমার নাম দিছে মাদারীপুর। আজ সারা দেশটাই তো মাদারীপুর।
যুবক ১ : (যুবক ৩ কে থামাতে চেষ্টা করে)। থাম বলছি। ওকে ছেড়ে দে। মিছামিছি ঝামেলায় পড়বি। (যুবক ৩ পুলিশকে লাথি মারে) আহ্ (বলে কষে গালে চড় মারলে যুবক ৩ পড়ে গিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে পড়ে। যুবক ১ উল্টো দিকে মুখ ঢেকে ফোঁপাতে থাকে। পরে যুবক ৩ কে বুকে টেনে নিলে সে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।) আমাকে মাফ করিস ভাই (পুলিশ কেটে পড়ে।)
যুবক ২ : বখাটেদের স্বর্গরাজ্য মাদারীপুর। আজ সারাদেশ মাদারীপুর, সারা উপমহাদেশ মাদারীপুর। নারীদের প্রতি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।
যুবক ৪ : কাঁটাতারে ধর্ষিতা কিশোরীর লাশ। এদেশের কৃষক, সাধারণ মানুষ আজ মাদক কিংবা নারী পাচারকারী অথবা গরুচোর– এই অপবাদ নিয়ে খুন হচ্ছে।
যুবক ৩ : মাদারীপুর ২০১২, ৪ঠা এপ্রিল। মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার ভবানীপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বখাটেরা বাজারের পিছনে নিয়ে…
যুবক ৪ : ২৮ জুন। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন। গ্রাম ছয়গাঁ। মুদি দোকানদার মজিদ আকন ও কুদ্দুস হাওলাদার একই গ্রামের এক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে পাটক্ষেতে…
যুবক ২ : ২১ জুলাই রাত। মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পক্ষিরা গ্রাম। বখাটে যুবকেরা দুয়ার ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে এক যুবতীকে গণহারে…
(এখান থেকে সকলে তাদের পরবর্তী সংলাপগুলো বিরতিহীনভাবে একযোগে চালিয়ে যাবে)
২৬ জুলাই সন্ধ্যা। মাদারীপুর রাজৈর উপজেলা। ৪র্থ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে…
যুবক ৩ : কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার আন্ডারচর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ– পরে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজানো হয়।
যুবক ২ : ৩১ আগস্ট এক কিশোরী… ১০ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সকে মারধর করে শ্লীলতাহানি।
যুবক ৪ : ২৮ আগস্ট এক শিশুকে পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে.. শেষে এলাকার প্রভাবশালীরা সালিশের নামে সময় পার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।
যুবক ৩ : ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ছকোটিয়া গ্রামে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়।
যুবক ২ : ৭ নভেম্বর সদরতলী গ্রামে ইমারত শ্রমিকরা এক কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে
যুবক ১ : (কানে আঙ্গুল দিয়ে চিৎকার) ওহ্ হো! এই… এই তোরা কি থামবি? (সবাই চুপ)
যুবক ৩ : বাসে-ট্রেনে-প্রকাশ্যে-নির্জনে নারী জাতির উপর এমন নিপীড়ন সভ্য বিশ্ব কি আর দেখেছে কখনো? ছি: অত্যাধুনিক সভ্যতার গায়ে কী লজ্জা!
যুবক ১ : লজ্জিত আমরাও। কিন্তু শুধু লজ্জিত হয়ে কি আমরা দায় এড়াতে পারবো?
শাহরুখ খান পুুরুষ হিসেবে লজ্জিত হলেও কি অপসংস্কৃতি বন্ধ হবে? অশ্লীল চলচ্চিত্রের প্রসার আর সমাজে নগ্নতা বেহায়াপনার চর্চা তাতে কমবে না, বাড়বে।
সকলে : কিন্তু এই নৈরাজ্য আর কতদূর? আর কতদিন চলবে?
( ঘন ঘন বাঁশি, পুলিশ ওদের ঘিরে ফেলে। যুবক- ১ মঞ্চের মধ্যভাগে এসে দাঁড়ায়। যুবক-২, ৩, ৪, ও ৫ কে বখাটেরা এসে পিছনে হাতমুড়িয়ে মঞ্চে ফেলে পিঠের ওপর পা দিয়ে উদ্ধত অত্যাচারীর ভঙ্গিতে দাঁড়াবে। পিছনে ২ জন পুলিশ বন্দুক-পিস্তল তাক করে থাকবে।)
যুবক ১ : (দর্শককে) জানি সত্য কখনো বঞ্চনা করে না। জনতার আজ দুর্দিন। সত্যের পক্ষে, মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা ভীষণ কঠিন। এই দুর্যোগে এই দুর্ভোগে শুধু যদি নিজে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজি, তবে কি আমরাও হবো না কাপুরুষ? একা বেঁচে থাকা নয়। তুষ্টিতে আত্মযাপিত জীবন নয়, সমষ্টির মধ্যেই আমাদের বাঁচতে হবে– সকল অন্যায়কে রুখে দিয়ে। একজন জার্মান কবি প্যাস্টর মার্টিন নিইয়েমুলার এর ক’টি লাইন বড্ড বেশি মনে পড়ছে–
‘প্রথমে ওরা এসে লোকটিকে ধরে নিয়ে গেল। আমি কোন প্রতিবাদ করিনি, কেননা লোকটি ছিল একজন ইহুদি। পরদিন ওরা এসে ধরে নিয়ে গেল একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে। আমি কিছুই বলিনি, কেননা আমি ট্রেড ইউনিয়নের কেউ ছিলাম না। এরপর ওরা এসে ধরে নিয়ে গেল একজন ফিলিস্তিনিকে, আমি কোন প্রতিবাদ করিনি, কেননা আমি ফিলিস্তিনিও ছিলাম না। শেষে ওরা এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে, তখন আমার জন্যে কোথাও কেউ ছিল না প্রতিবাদ করার।’
[ফ্রীজ। ধীরে ধীরে আলো নিভবে।]
- সংক্ষেপিত। পরিবর্ধণ ও পরিমার্জন নাট্যকারের এখতিয়ার।
- কপিরাইট আইন অনুযায়ী নাট্যকারের অনুমতি ব্যতিত নাটকের মঞ্চায়ন কিংবা ভিজুয়ালাইজেশন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
