কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে চর্চা ও গবেষণার বিষয়ে আমার ধারণা, তাঁকে সামগ্রিকভাবে চর্চার পরিবর্তে খণ্ডিত আকারে বিশ্লেষণের প্রবণতা রয়েছে। তাঁর দ্রোহ থেকে প্রেমকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়, অথচ মানবপ্রেমের উদ্দীপনাই তার অবমাননার ক্ষেত্রে দ্রোহ হয়ে ওঠে। তাঁর দুই হাতে একই সময়ে বাঁশের বাঁশরী ও রণতূর্য থাকে বলে তাঁর বিদ্রোহী ও প্রেমিক সত্তাকে আলাদা করার সুযোগ নেই। আবার নজরুলের বিভিন্ন বহুল ব্যবহৃত উপমা বা শব্দ শুধু এসব নিয়েও গবেষণা/বই হয়েছে বিস্তর। কখনো তাঁর গানকে কবিতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে গুণাগুণ বিচারের চেষ্টা হয়েছে।
আমি মনে করি তাঁর গভীর সাহিত্যদর্শন “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৃহত্তর মানবপ্রেমের বাণী” মুখ্য হয়ে ওঠা উচিত আলোচনায়, গবেষণায়, বইয়ে। এই দর্শন থেকে উৎসারিত ‘শোষিতের প্রতি গভীর মমত্ববোধ’, ‘প্রিয় বা পরিবারের প্রতি গভীর আবেগ’ এবং ‘অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ক্ষোভ’ তাঁর সকল সাহিত্য জনরা, ফর্ম এবং গ্রন্থের ক্ষেত্রে সত্য। এ সব কিছু মিলেই এক অনন্য নজরুল, তাঁকে উল্লেখিত ছোট ছোট গণ্ডিসমূহে আবদ্ধ না করে সময়ের বৃহৎ ক্যানভাসে সামগ্রিকভাবে আঁকা জরুরি বলে মনে করি।