আবদুল্লাহ খান
[প্রথম কিস্তি]
তেহরান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মহীন প্রবীণ শিক্ষক মাহমুদ সাদাত ইমামের অফিসে দরখাস্ত করলেন, তার একটা চাকরি দরকার। ইসলামী বিপ্লবের পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেজাজ তরিকত মেরামত করার জন্য আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মুসলমানদের দেশ পাবলিকের ট্যাঁকের পয়সায় ইসলামবিরোধী, নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ উজবুক তৈরি হবে, তা হতে পারে না। এ নিয়ে জাত গেল, জাত গেল, বহু হই চই হয়েছে। মানবাধিকার, শিক্ষার অধিকার, মুক্তচিন্তা ইত্যাদি বহু তন্ত্র-মন্ত্র গাওয়া হয়েছে। বিপ্লবের নেতা খুব শক্তভাবে বললেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হতে মুসলমান তথা মানুষ বানাতে চাই। নৈতিকতা বিবর্জিত, ধর্মহীন, শিক্ষিত প্রাণী আমাদের দরকার নেই। তাই এর যাবতীয় সংস্কারের জন্য সময় লাগবে।
চীনে লাল বিপ্লবের পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিন বছর সব কিছু বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইরানের কথা বলতে গিয়ে চীনের কথা কেউ বলে না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কাজ-কর্ম, রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা চাই। ইমামের দফতরে একটা দরখাস্ত রেখে দিয়েছিল। কয়েক দিন পর মাহমুদ সাদাত যখন তার আবেদনের বিষয়ে খবর নিতে আসলেন, তখন তাকে মজার একটা কর্মের অফার দেওয়া হলো! তেহরানের সিটি সেন্টার তোপখুনে হতে শহরতলি তাজরিসের রাস্তায় চলা দোতলা বাসের ড্রাইভারের চাকরি। মাহমুদ সাদাত রাজী হলেন। উরদি পরে পাবলিক বাস-ড্রাইভারের কাজে লেগে গেলেন।
কয়েক মাস পরে ইমামের অফিস হতে তাকে তলব করা হলো। বিদেশে ইরানের কিছু কটনৈতিক পদ খালি আছে। শাহের আমলের অনেকেই চাকরি ছেড়ে পশ্চিমে চলে গেছে। ইমাম চাচ্ছেন এর কোথাও মাহমুদ সাদাতকে দেয়া যেতে পারে।
সাদাতের ঢাকার আসার এ হল গল্প। যা পরে তিনি বলেছেন। তিনি তখন ঢাকায় ইরান দূতাবাসের প্রধান। ঢাকাতে তার কাজকর্ম অনেক সীমিত। অফিসের রুটিন কাজের বাইরে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মসজিদে যান নামাজ পড়তে। প্রায়ই খবর দিতেন সন্ধ্যায় তার সাথে গল্পের আড্ডায় যোগ দেবার জন্য। মাস্টার মানুষ। সুতরাং গল্পের অভাব নেই। এরই মধ্যে তার একটা পুত্র সন্তান জন্ম নেয় ঢাকাতে এবং জন্মের পরপরই সে ইন্তেকাল করে। বললেন, ঢাকা শহরকে ভুলে যাবার কোনো উপায় নেই আমার।
একদিন বিটিভির লেট নাইট নিউজের পরে বিজ্ঞাপন এলো রক্ত দরকার। রক্ত দেওয়ার জন্য আবেদন। একটা মুমূর্ষু শিশুর জন্য রক্ত দরকার। সেই গভীর রাতে তিনি নিজে চলে আসলেন বাচ্চাটাকে রক্ত দেওয়ার জন্য। নিজেই ড্রাইভ করে আসলেন। বললাম, তোমার তো এভাবেই বের হবার কথা না!
আরে রাখো তো! এই মাসুম বাচ্চাটার যদি সামান্য উপকার হয় তাতে আমি আরও দশবার এই নিয়ম ভাঙতে রাজি আছি। এ অপরাধের কারণে দেশে ফিরতে হলে আমি তো জঙ্গের ময়দানে দৌড়াবো। এখনো সাহস আছে, হিম্মতও আছে।
মাহমুদ সাদাত ঢাকা থেকে চলে যাবার পরে একবারই দেখা হয়েছিল পবিত্র মক্কায়। ১৯৮৪ সালে হজের সময় ইরানিরা আগেই ঘোষণা করেছিল তারা মক্কাতে রুশ-মার্কিন-ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ করবে।
আগের দিন প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কে একজন আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
আমি একটু চমকে গেলাম। দেখি মাহমুদ সাদাত।
: তোমাকে কতক্ষণ থেকে ডাকছি, টের পাওনি?
: হ্যাঁ, তাই তো।
: কেমন আছো? তোমার বন্ধুরা কেমন আছে?
একশ্বাসে বহু প্রশ্ন।
তোমারে পাইছি ভালোই হলো। চলো আমাদের অফিসে, মানে আমাদের হজ মিশনে। চা খাবো আর কথা বলব।
: কাল আমাদের বিক্ষোভ সমাবেশ। তোমার তো থাকতে হবে তাতে। দ্বিতীয়ত বাংলায় কিছু পোস্টার লিখতে হবে।
বুঝলাম ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।
: আমার তো পোস্টারের লেখার হাত খুব ভালো না। আর এ বাবদে পূর্বের অভিজ্ঞতাও কম।
: ঠিক আছে তুমি খারাপ হাতেই লিখ। বুঝা গেলেই হলো যে ওটা বাংলা।
কী আর করা! ঢেঁকি স্বর্গে পাঠাবার বদলে গিলতেই হলো!
ঢাকাতে মেহেদী সাহেবের পোস্টিং-এর প্রস্তাব এসেছে। ইরানি বিপ্লব চলাকালে ভারতের কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত। বয়স তখন সাতাশ। অবিবাহিত বলে ইমামের অফিস হতে তার ফাইল ফেরত এসেছে। একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে, ঢাকা যাবার আগেই তাকে বিয়ে করতে হবে। তিন মাস তেহরানে বউ নিয়ে ঘর-সংসার করতে হবে। তারপরে ঢাকা যাবার অনুমতি পাবে।
আমার পুরাতন বাই-সাইকেলে ‘প্যাডেল মাইরা’ আমি প্রথম যেদিন তার সাথে দেখা করতে যাই, খুব অবাক হলেন। বললেন, তোমার কথা তো আমি ওখানে বসেই তোমার এক বন্ধুর কাছে শুনেছি। সেই তুমি যে একটা হাফ শার্ট গায়ে জড়িয়ে ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানো ছাত্র তা তো ভাবিনি!
বললাম-তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমি কি হনুরে!
: আমি কী হনু! আসলে আমি নিতান্তই আকাইম্মা ভোঁদড়!
হাসতে হাসতে উর্দুতে কিছু বলতে যাচ্ছিল। বললাম, তুমি ভারতে বসে ভালো উর্দু শিখেছ বুঝলাম। আমি কিন্তু তো ওই জবানে একেবারেই লবেজান।
ব্যক্তিগতভাবে খুবই সক্রিয় মানুষ ছিলেন মেহেদী সাহেব। ভারতে ইরানি হাজার হাজার ছাত্রদের প্রিয় নেতা ছিলেন শুনেছি। ঢাকাতে আলেম-ওলামা শিক্ষক পেশাজীবীদের সাথে তার হামেশা দেখা-সাক্ষাৎ হতো।
এতো বিদগ্ধজনের বাইরে আমি ছিলাম নিতান্তই অ-গোনা একজন। কোন জাত পাত ছাড়াই তার সাথে ছিল আমার একটা আন্তরিক সখ্য।
বললেন, আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় সাধারণত ঘরেই থাকি মাগরিব পড়ে চলে আসবে। ডিনারে তোমার দাওয়াত রইলো। রাতে মানে প্রতি শুক্রবার রাতে। আমি বাড়িতে মুরগি পালি। সবজির চাষ করি। এ জন্য ডিম ও সবজির বাবদ আমার খরচা নাই। আমি আমার কলিগদেরকেও তা দেই। চাইলে তুমিও নিতে
পারো।
: আমার তো কোনো ঘর-গিরিস্তি নাই। নিয়েই বা কি করি!
: কিন্তু তুমি এসব করছে কেনো?
: আমার খাওয়া-দাওয়া বাজার ঘাট সবই তো সরকার দেয়। তাও বৈদেশিক মুদ্রায়। সুতরাং সরকারের দুটো পয়সা যদি বাঁচে! আমি সে চেষ্টা করছি।
মেহেদী সাহেব বদলির আদেশ পাবার পরে একদিন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে অত রিলিভার গোর্জিজাদেহকে বললেন, তোমার উপর অফিসের দায়িত্বের পরে আর একটা বাড়তি দায়িত্ব দিতে চাই। গোর্জিজাদেহ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, ওর বিয়ের দায়িত্বটা তোমার উপরে রইল আমি বললাম, এটা কোন দেশের ঘটকালি? ভাবখানা কী এমন, আগায় মেহেদী বহুৎ মেহনতের পরও আমাকে শাদি মোবারকের হেদায়েত দিতে পারেননি? আছি বরং কথা দিচ্ছি যথাসময়ে, যথাস্থানে ও যথাযথভাবে তা ঘটে যাবে।
গোর্জিজাদেহ বললেন, একটা শর্ত আছে, বিয়ের পরে কালবিলম্ব না করে বউসহ আমার মেহমান হবে।
বিয়ের পর বউ নিয়ে ঢাকা পৌছে আমি গোর্জিজাদেহকে ফোন করলাম। একদিন আখড়া বন্ধ করেই তার বাসায় হাজির হলাম। হোসাইন তখন চার, তার বোন রাইয়ানা দুই বছর বয়সী। তারা ভীষণ খুশি। হোসাইন বারবার তার মাকে জিজ্ঞেস করছে খানমের সাথে তার বেবিরা আসেনি কেন? পেছার নিসত? দোকতার নিসত? ছেলে নেই? মেয়ে নেই? সে খুব হতাশ হলো। আমার সাথে হোসাইনের আগেই জানাশোনা ছিল বলে সে গান শুরু করে দিল-ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে…
আমি আর পারভীন দু’জনে তার গান খুব উপভোগ করছিলাম।
কোথাকার গান? কে তারে শিখালো?
তোমাদের টেলিভিশন। আমি নিজেও বুঝি না সে কি বলছে। আমার বাসায় এক বাংলাদেশী মহিলা খাদেমা কাজ করে। হোসাইন হলো তার সাথে আমাদের যাবতীয় কথাবার্তার অনুবাদক। গোর্জিজাদেহ বললেন।
খানমে গোজীজাদেহ বাংলা ও ইরানি ডিশের প্রচুর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করলো। বললাম, তোমরা জামাই খাওয়াচ্ছ নাকি নতুন বউ খাওয়াচ্ছে?
বললো, দুটিই।
রাত গভীর হচ্ছে। আমি বারবার তাড়া দিচ্ছি। যেহেতু নিজের বাহন নাই সেহেতু এই দীর্ঘ পথ বউসহ আমাকে বহন করার যোগ্য কিছু পেতে হবে। আমার তাগাদা বারবার তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আরে বস, লাগলে আমি রাস্তায় গিয়ে কিছু একটা ধরে দেবো তোমাদের জন্য।
রাত একটার দিকে নিজে গাড়ি রেডি করে এসে গোর্জিজাদেহ বললেন, ড্রাইভার হিসেবে আমি কেমন তা তোমাদেরকে দেখাবো। ছেলে হোসাইন গাড়িতে উঠে পড়লো। এত রাতে এই ভদ্রলোককে কষ্ট না দিয়ে আমরা বরং নিজেরাই কিছু পেয়ে যাব বলতেই খানমে গোর্জী গার্জেনসুলভ গর্জন তুললেন। আর তার আপত্তি অগ্রাহ্য করার সাধ্য কার! এই গভীর রাতে আমাদেরকে এলিফ্যান্ট রোডে নামিয়ে গোর্জিজাদেহ বললেন, তোমার বাসায় পৌঁছে ছাদে দাঁড়িয়ে আমাকে জানাও। ততক্ষণ আমি অপেক্ষা করছি।
দেশে ফিরে যাবার বারো বছর পরে কয়েক দিনের জন্য গর্জিজাদেহ দাপ্তরিক কাজে আবার ঢাকা এসেছিলেন। আমাকে খবর দিলেন। তার সাথে দেখা হলো। আমি তখন একটা হাসপাতালে চাকরি নিয়ে জেদ্দা যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব অবাক হলেন। বললেন, আর্থিক বিষয়ে তো তোমাকে আগে কখনো এত সিরিয়াস মনে হয়নি। হজ বা জেয়ারতের জন্য মক্কা মদিনায় তো সবাই যেতে চায়। তুমিও নিশ্চয়ই যাবে। কিন্তু তোমার চাকরির নিয়তে আমার সন্দেহ আছে। আদৌ কি তুমি চাকরি করার জন্য মানসিকভাবে উপযুক্ত?
গোজিজাদেহ ঠিকই বুঝেছিল। জেদ্দাতে পনেরো দিন চাকরি করেই আমি বুঝতে পারলাম আমাকে দিয়ে এসব হবে না। ঠিক একশো দিনের মাথায় আমি ‘ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন’।
একবার তেহরানে মেহেদী সাবের সাথে দেখা হলে বললেন, বহুদিন পরে তিনি বাবা হয়েছেন। বিপ্লবের নেতা নিজেই মেয়েটার নাম রেখেছেন। এলাহে।
মেহেদী সাহেব তার পেশায় অনেক উন্নতি লাভ করেছিলেন। সালমান রুশদীর ঘটনাকালে ব্রিটেনে ইরানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একটা সময় পাকিস্তানেও ছিলেন। প্রবতীকালে পারমাণবিক দেন দরবারে পশ্চিমাদের সাথে তিনি ইরানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
শুনেছি, অবসরের পরেও সরকার তাকে যেতে দেয়নি।
ঢাকাস্থ ইরানের ছাত্ররা একবার প্রস্তাব করলো টাঙ্গাইলের যমুনার চরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তারা রিলিফ বিতরণে যাবে। আমরা তাদের সাথে গেলে কাজটা খানিকটা সহজ হতো। আমাদের বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল আউয়াল, সাংবাদিক কাম ছড়াকার সৈয়দ মুসা রেজা এবং আরো কয়েকজনের সাথে আমিও তাদের সাথী হলাম। আমরা ট্রাকে করে কালিয়াকৈর সেখান থেকে লঞ্চে যোগে কাকুয়ার চরে যাই।
যাওয়ার পথে একজন সাবেক মন্ত্রী তার লোকদের মাধ্যমে আমাদের সালাম পাঠালেন। আমরা এত কষ্ট স্বীকার করে রিলিফের কাজে যাচ্ছি তাতে তিনি কৃতজ্ঞ। তবে আমরা চাইলে তার ত্রাণ ভাণ্ডারে ত্রাণসামগ্রী জমা দিয়ে চলে যেতে পারি। তিনি তার লোকদের মাধ্যমে তা বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। আর আমরা সরাসরি দিতে চাইলে তার পছন্দের একটা এলাকায় যেতে বললেন। বিতরণ শেষে রাতে আমরা তার ঘাটে লঞ্চ থামিয়ে বিদেশী ছাত্রদেরসহ তার বাড়িতে ডিনার করবো।
আমাদের সোর্স বলছিল কাকুয়ার চর খুবই দুর্গম ও নাজুক এলাকা। সেখানে কোনো ত্রাণ যায়নি। আমরা সেখানে গেলাম এবং মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সাক্ষী হলাম।
সারা দিন আমরা সেখানে ত্রাণ বিতরণ করলাম। চাল-ডাল, শিশুখাদ্য, শুকনো খাবার, কাপড়চোপড় ছিল আমাদের সাথে। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দিলাম।
ফেরার পথে মন্ত্রী সাহেবের দাওয়াত। আমরা তার ঘাটে থামলাম। তখন রাত দশটা। কিন্তু দাওয়াত তো দূরের কথা, লোকজন খবর দিলো আমরা কেন মন্ত্রীর পরামর্শ মতো এলাকায় যাইনি, এটা নিয়ে তিনি খুব ক্ষুব্ধ। তারপরও তিনি আপনাদের রাতে খাওয়াবেন বলেছেন। আপনারা অপেক্ষা করুন। দুই দিনের পরিশ্রম ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত আমাদের সহযাত্রীরা ভেতরে-বাইরে যে যেখানে পারছে ঘুমাচ্ছে। পথের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা ঘাটেই রইলাম। আবার মন্ত্রীর খাবার পেটে না পিঠে আসবে সে দুশ্চিন্তাও ছিলো! সৌভাগ্য, তিন ঘণ্টা পরে রাত দুটোর দিকে দুই তিনজন গ্রামবাসী এক গামলা লম্বা খিচুড়ি কয়েকটা প্লেট আর পানি নিয়ে আসলো। মন্ত্রী বা তার চামচাদের কোনো পাত্তা নেই। গ্রামবাসীদের নিয়ে আসা খিচুড়ি অমৃত বিবেচনায় খেলাম। পরে শুনলাম কাকুয়ার চরটা মন্ত্রী সাহেবের নির্বাচনী এলাকার বাইরে বলে তিনি আমাদের মেহমানদারি করেননি। সত্য-মিথ্যা আল্লাহ ভালো জানেন। তবে এটা ঠিক আমরা তাঁর নির্দেশিত এলাকায় যাইনি। আর এ গোনাগারির কারণে তিনিও তার দাওয়াত রাখেননি। তাও ভালো উত্তম-মধ্যম দেননি।
বুঝলাম মন্ত্রী হবার জন্য নেতা হতে হয়, মানুষ না হলেও চলে।
[চলবে]
