ডরাই না

রক্তচোষা দানোর মতোই
খাচ্ছো জীবন শতশতই
দাও না তুমি হুমকি যতোই
কেয়ার করি থোরাই না!
আমরা তো আর ডরাই না!


বুকের ভিতর ধিকি ধিকি
দুক্ষ ওঠে আইঙ্গা
ডরতে ডরতে ডরের ভান্ড
আজকে গ্যাছে ভাইঙ্গা
ছাঁইচাপা এই আগুন বুকে
গ্লানির চাদর চড়াই না
আমরা তো আর ডরাই না।

হক্ক কথা কই, তাই এতো রাগ!
দেখাচ্ছো ভয়, দেখাও দেমাগ!
তোমার মতো কুট কুশল আর
মিথ্যা গুজব ছড়াই না
আমরা তো আর ডরাই না
ক্ষুধার্ত এই উদর, তবু
হারাম খেয়ে ভরাই না
আমরা তো আর ডরাই না

বুলেট গ্রেনেড দমন-পীড়ন
হত্যা গুম ও লাশ
বাদ রাখোনি ছাত্র, শিশু
রক্ত ঝরা ত্রাস
নিরস্ত্র প্রাণ মারতে গুলি
করছো হেলিকপ্টারে
এমন ঘাতক কে দেখেছে
ইতিহাসের চাপ্টারে!

জেলের ভাতও খাওয়াইছো
কুত্তা দিয়াও ধাওয়াইছো
করবা কি আর? হয় বড়জোর
দিবা না হয় ফাঁসি
ঈমান আছে, ন্যায়ের পথে
মরণ ভালোবাসি
সত্য বলার সাহস রাখি
অহংকার ও বড়াই না
আমরা তো আর ডরাই না।


ফায়দা লোটার ভন্ডামিতে
জুলুম বাজের চামচামিতে
নিজকে তো আর জড়াই না
আমরা তো আর ডরাই না।

জুলুম শোষণ সইতেছি
তাই,
দ্রোহের কথা কইতেছি
তোমার মতো খিস্তিখেউড়
বদবু গরল ঝরাই না
আমরা এখন ডরাই না।


মরণ প্রেম

প্রেমে পড়ে গেছি তোমার
গভীর, সুগভীর প্রেমে
অতল, অতলান্ত প্রেমে
নিবিড়, পবিত্র প্রেমে
নিমগ্ন, অনাবিল প্রেমে
অঝোর, অকুন্ঠ প্রেমে
বিশ্বাস, আস্থা,
সম্মান ও শ্রদ্ধায় ভরা
স্বর্গীয় এক মোহময় প্রেমে।

যে প্রেমে বুক কাপে থরথর
চোখ ছলছল করে
কলিজায় টান লাগে
যে প্রেমে পাগল মন
আনমনে হাসে
স্বপ্নের ডানায় ভাসে
যে প্রেমে জন্মান্ধের অন্ধ চোখেও
প্রভাতের আলো জাগে
যে প্রেমে ঘুম পালিয়ে যায়
দুরত্ব আর সময়সীমা গুলিয়ে গুলিয়ে যায়
আসমান ও জমিনের
ব্যাবধান ভুলে যায়।

যে প্রেমে বয়স নেমে আসে
শুন্যের দশকে,
জীর্ণ শীর্ণ বয়োবৃদ্ধ হৃদয়
অকস্মাৎ উদ্যাম যৌবনে ফিরে আসে
যে প্রেমে ঘরকুনো ভীত সন্ত্রস্ত বালক
পলকেই বাহাদুর বনে যায়
হাতের মুঠোয় প্রান নিয়ে দাড়িয়ে যায়
সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি,
যে প্রেমে রাজার কুমার
প্রাসাদ ছেড়ে নেমে আসে পথে
হয়ে যায় পথের পথিক


যে প্রেমের নেশায়
তৃষ্ণা কাতর মরু মুসাফির
চিরতরে ভুলে যায় আজন্ম তৃষা
যে প্রেমের উত্তাপে নিরুত্তাপে নত হয়
নমরুদের সন্ত্রাসী আগুনের কূপ
ফারাওয়ের ফুটন্ত তেলের কড়াই,

যে প্রেমের ছোঁয়া পেলে
গিলগামেশের মতো
অমৃতের সাধ জাগে মনে
যে প্রেমের অনুরাগে পিথাগোরাস
মটরশুঁটির ক্ষেতে দাড়িয়েও
ক্ষুধা ও মৃত্যুকেই
জড়িয়ে নেয় শেষমেশ


যে প্রেমের গভীরতা
লাখো কোটি পঙতিতেও
যাবে না বলা
গতরের সবটুকু রক্ত দিয়ে
দেয়ালিকা লিখে দিলেও

যে প্রেমের মহত্ত্ব হবেনা প্রকাশ
সবুজ ঘাসের ডগায় ডগায়
যে প্রেমের লাল কণা
ধুসর কালো পিচঢালা পথে
রক্তিম আল্পনা
তেমনি এক বিমুগ্ধ অকূল প্রেমে
হাবুডুবু খাচ্ছি আমি!

হে খুনরাঙা বিস্ময় প্রজন্ম

দুরন্ত সাহসী নবীন
হে আমার হার না মানা চব্বিশের তারুণ্য
হে আমার কালের নকিব
তোমার ঐ রক্তাক্ত বুকে
আমাকে জড়িয়ে নাও
লাল চন্দন কাঠের মতো
শক্ত সুঠাম বাহুতে
আমাকে আলিঙ্গন করো
আমি তোমাকে ভালোবাসি
মজনু, ফরহাদ, রোমিওর চেয়েও
আরও আরও
অনেক বেশী


বড়ো বেশী খুব বেশী
মরণ প্রেমে মজেছি তোমার

১ আগস্ট ২০২৪


আবু সাঈদের ইশতেহার

টান টান করে পেতে রাখা সিনার গারদে
একটা বুলেট বন্দী করে নিলাম
অতঃপর আরো একটা বুলেট
হজম করে দিলাম
অতঃপর আরো আরো আরো আরও…

ইচ্ছে ছিলো তোদের সবগুলো বুলেট, গ্রেনেড
বন্দী করে ফেলবো চিতিয়ে রাখা এই প্রশস্ত বুকের পাজরে
আমার ফুসফুস ও কলিজার সবকটি চেম্বারে গণকবর দিবো সকল কার্তুজ
যাতে আর একটাও অবশিষ্ট না থাকে
তোদের বন্দুকগুলোর ম্যাগাজিনে।

পয়েন্ট ব্লাংক রেঞ্জ থেকে
সরাসরি টার্গেটে ছুটে আসা
তীব্র গতির বুলেটের ধাক্কায়
কেউ কি আমাকে ও আমার
সংকল্পকে টলে উঠতে দেখেছিস?

চিৎকার করতে দেখেছিস
একবারের জন্যেও ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে?

পঙ্গপালের মতো ছুটে আসা সবগুলো বুলেটের সামনে আমি
আগুনের ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছিলাম,
শিখার মতো হেলেদুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলাম কেবলমাত্র আমারই দিকে
হ্যা, আমি ঢাল হয়ে দাড়িয়েছিলাম
আমার প্রিয়তম ভাই ও বোনদের জন্য
মা ও সন্তানের জন্য
প্রানের চেয়ে প্রিয় এই আমার
বাংলাদেশের জন্য,

এ তো ছিলো শুধুমাত্র একটি
টিউটোরিয়াল,
পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিতে
কাপুরষ ও সুপুরুষের মাঝে
পিশাচ ও মানুষের মাঝে
ভীরু ও বীরের মাঝে
পুচ্ছ ও শিরের মাঝে,
লেফট হ্যান্ড সাইড এন্ড
রাইট হ্যান্ড সাইড ইজ
নট ইকুয়্যাল ফর এভার
আমার শিরা-উপশিরায় টগবগ করতে থাকা খুন
বিদ্রোহ করে উঠে বেরিয়ে আসছিলো
চোখ,নাক ও মুখ দিয়ে
মহা বিপ্লবের বীজ হয়ে
দানায় দানায় ঝরে পড়ছিলো, ছড়িয়ে পড়ছিলো
কর্ষিত এই শ্যামল মৃত্তিকায়
আমি চরম উপেক্ষায় যোদ্ধার ভঙ্গিতে
উঠে দাড়ালাম আরও উচ্চতায়
হজম করে ফেলা বুলেটগুলো
ঘুমের বড়ির মতো আমাকে
ঘুম পড়িয়ে দিচ্ছিলো

হায় কতো দিন কতো রাত
না ঘুমোনোর উপোস,
কিন্তু আমি ঘুমাইনি
দ্যাখ, চেয়ে দ্যাখ
শত সহস্র শহিদের মিছিল নিয়ে
আমি ও আমরা উঠে দাড়িয়েছি আবার
এবং আবার
এবং বারংবার
আমার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
বুকে বুকে বুক ফুলিয়ে
জেগে উঠেছে,
উঠে দাড়িয়েছে,
ঘুরে দাড়িয়েছে
গোটা বাংলাদেশ
সমস্ত দুনিয়া
মহাসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো
সামনে এগিয়ে যাবে দ্রোহের মিছিল
এ মিছিল থামবে না
রক্তের রঙে যদিও লাল হয়ে যায়
পদ্মা, মেঘনা, যমুনার রঙহীন গালিচা
এ মিছিল থামবে না
আকাশ থেকে অঝোরে নামুক বারুদ শ্রাবণ


এ মিছিল থামবে না
রক্তপিপাসু ডাইনির চিবুক বেয়ে
বয়ে যাক জমাট স্রোত
পিচ্ছিল হয়ে যাক তপ্ত রাজপথ
এ মিছিল থামবে না
মুক্তির লাল শামস উদয়ের আগে
এ মিছিল থামবে না আর
হুহ,
তোদের অস্ত্রাগারে আর কতো অস্ত্র আর কতো বুলেট
আর কতো গ্রেনেড
বাকি আছে বল?

২৭ জুলাই ২০২৪


ক্ষুদ্র অন্ত্যমিল

১.
দেখ জনতা জাগছে এবার রুদ্র কলিজায়
আজকে জাতি কেবল তোদের
পতন প্রতিক্ষায়

2.
রক্তের বিনিময়ে চলবেনা রফা
আর কোনো কথা নেই শুধু একদফা

৩.
জ্বলছে বুকে তুষজ্বালা
বাংলা এখন কারবালা

৪.
হাজার সালাম তোমায় ওহে যুগের মুয়াজ্জিন
তোদের কাছে পড়লো জমা জাতির অনেক ঋণ

৫.
আকাশ ভোলেনি শহীদের শোক
কাঁদছে সে-ও অঝোরে
আমরা ভুলিনি কভু ভুলবো না
আঘাত হানবো সজোরে

৬.
রক্তের রঙ লাল
ঘাতকের রঙ নীল কালো
পুড়ছে সবার দিল
ছাইচাপা ঐ আগুন আবার জ্বালো

৭.
ধুসর কালো পিচঢালা পথ
রক্তে লালে লাল
বাদ পড়েনি দুধের শিশু
সাক্ষি মহাকাল

৮.
আমার ভাইয়ের রক্ত লালে
লাল হয়েছে দূর্বাঘাস
দারুণ দ্রোহে বইছে বাতাস
শুনি ঝড়ের পূর্বাভাস

৯.
দ্যাখ রে খুনী সৈরাচার
ভয় করি না এখন আর
ভাইঙ্গা গেছে মরণ ডর
যত্তো পারিস গুলি কর

১০.
গুলির মুখে বুকের বোতাম
দ্যায় খুলে দ্যায় আমার ভাই
রক্তে ভেজা জমিন বলে
সৈরাচারের সময় নাই।

১১.
ঐ হানাদার কয়টা গুলি
বাকি রে তোর বন্দুকে
শোকের আগুন জ্বলছে ভীষণ
আয় গুলি কর এই বুকে

১২.
আমার আকাশ আমার সাগর
আমার সবুজ জমিনে
মোড়লগিরী দেখাস কে রে
ভাগ যা ছালা কামিনে।

১৩.
বোধের বারুদ জ্বালাও বুকে
জ্বালাও চোখে দ্রোহের আগুন
প্রতিবাদের মশাল জ্বেলে
দেশবাসী আজ জাগুন জাগুন।

১৪.
মানুষের জনপদে
পিশাচের রাজ
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও
সবে মিলে আজ।

১৫.
আয় জনতা আয়
কাফন পরে আয়
জালিম খুনীর গুলির মুখে
হাসবো ঘৃণায় পরম সুখে
চরম উপেক্ষায়

আজ বুকে বিদ্রোহের আগুন
জ্বলছে অতিকায়।


নিরোর বাঁশি

ওরা আমার ভাইবোনদের
ইস্পাতের ব্রেসলেট পরিয়ে
টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে,
ভ্লাদ ড্রাকুলার মতো নিরীহ অসহায়
নারী পুরুষ ছাত্র ও শিশুর রক্ত পান করে
ঘৃন্য তাচ্ছিল্যের নাটক মঞ্চায়ন করছে
আমার মা-বোনের জীবন ও আত্মসম্মানে
হান্টারের ঘা মারছে অবিরত
তুমি কি এখনো ঘরেই বসে থাকবে?

চিনাবাদাম আর খিচুড়ি খেতে খেতে
দালাল মিডিয়ার সংবাদ দেখবে?
থাকো,
তুমি তোমার অন্ধকার ঘরে
কাচের চুড়ি আর
ছায়া ব্লাউজ পরে বসে থাকো।

আমি তোমাকে কিনে দেবো
নিরোর বাঁশি আর
পলাশীর ঘসেটি খঞ্জর।

Scroll to Top